Facebook Twitter Instagram YouTube

কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ /
কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাকার কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শাহানুর আক্তারকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম জর্জ জানান, কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পরপরই সাজা পরোয়ানা মূলে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শাহানুর আক্তারের প্রথম স্বামীর মৃত্যুর প্রায় ১১-১২ বছর আগে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। তারা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। জাহাঙ্গীর দিনমজুরির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা সংগ্রহের কাজ করতেন। নিয়মিত নেশাগ্রস্ত জাহাঙ্গীর প্রায়ই স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন এবং এ নিয়ে তাদের সংসারে কলহ লেগেই থাকত।

২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর রাতে যৌতুক নিয়ে ঝগড়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। এরপর তারা নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে শাহানুরের মেয়ে মাকে ডাকতে গিয়ে কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকানো অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তার ভাইয়ের সহায়তায় দরজা খুলে খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরদিন ২০ নভেম্বর শাহানুরের ভাই জামাল উদ্দিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জুন এসআই মো. রফিকুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।