Facebook Twitter Instagram YouTube

ছুটির ঢাকায় নিত্যপণ্যের চড়া দাম, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ণ / ০
ছুটির ঢাকায় নিত্যপণ্যের চড়া দাম, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানীর অনেক বাসিন্দা শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। স্বাভাবিকভাবেই বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমেছে, তবে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি নিত্যপণ্যের দামে। চাল, ডাল, তেল, আটা, মাছ ও মাংসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো গত সপ্তাহের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বুধবার রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও কলোনি ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, ছুটির সুযোগ নিয়ে বাজার তদারকি শিথিল থাকায় ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম কমাচ্ছেন না। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের ভিন্ন ভাষ্য। তাদের দাবি, ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে ঠিকই, কিন্তু পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান জানিয়েছেন, গত এক মাস ধরেই মুদি পণ্যের দাম বাড়তি। চালের কেজিতে সম্প্রতি প্রায় দুই টাকা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, লোকসান দিয়ে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে মিল পর্যায়ে সরবরাহমূল্য না কমলে খুচরা বাজারে দাম কমানোর কোনো সুযোগ নেই।

বাজারে চালের দামের চিত্র বেশ চড়া। মাঝারি মানের বিআর-২৮ ও পাইজাম চাল মানভেদে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু বা মিনিকেট চালের দাম কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং নাজিরশাইল চালের দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা। মোটা চালের মধ্যে চায়না ইরি ও গুটি স্বর্ণা জাতের চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটা ও ময়দার বাজারেও স্বস্তি নেই। খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির তথ্যমতে, গত এক মাসে আটার দাম গড়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে। খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামও গত সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো মানের পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং হাইব্রিড পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডালের দামও বেশ বাড়তি; মোটা মসুর ডাল ৯৫ থেকে ১১০ টাকা এবং ভালো মানের ডাল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলার দাম প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা, যা এক মাসে প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া অ্যাংকর ডাল খুচরা বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ১৫-২০ দিন আগেও ডালের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কম ছিল।

মুরগি ও মাংসের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস এলাকাভেদে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। তিন সপ্তাহ আগে ১৬০ টাকা ডজন পর্যন্ত উঠলেও বর্তমানে তা ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও নতুন শীতকালীন সবজির দাম বেশি। পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং উচ্ছে ও ঝিঙা ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন শিম কিনতে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং প্রতিটি ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে। তেজগাঁও এলাকার সবজি বিক্রেতা শাহ আলম জানান, বিক্রি কমে যাওয়ায় পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার ভয়ে তিনি এখন কম সবজি আনছেন। কারওয়ান বাজারে আসা ক্রেতা নুর হোসেনের মতে, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ভালো থাকলেও তদারকির অভাবে দাম কমানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh