সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে সাড়ে সাত হাজারের মতো বাংলাদেশি নাগরিক বন্দী আছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সম্প্রতি রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ গ্রহণ করতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের ৪০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি সরকারের কাছে রায়ের অনুলিপি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলা হয়েছে। তবে ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সৌদি সরকার বিভিন্ন সময়ে কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের যে তালিকা পাঠায়, সেখানে এই দুজনের নাম আছে কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখছে। উল্লেখ্য, সৌদিতে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও জানান, কোনো দেশের বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা বাংলাদেশের উদ্দেশ্য নয়, তবে বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দণ্ডিত হলে বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা জরুরি। এ ধরনের বিষয় সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করে। কূটনৈতিক চ্যানেলে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাজা মওকুফের সুযোগ আছে কি না, তাও আলোচনা করা হয়।
এদিকে, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় বগুড়ার শাহজাহানপুরের মো. শাহেদ আহম্মেদ নিহত হন। তিনি সেখানে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ হামলায় শাহেদসহ দুজন বাংলাদেশি নিহত এবং আরও ২৪ জন আহত হয়েছিলেন। গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে নিহত ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে শাহেদ ১১তম। এছাড়া গত এক মাসে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট তিনজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং নবায়নের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। মিশনের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের যথাযথ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি মিশনে শ্রমকল্যাণ উইং রয়েছে এবং কোথাও মিশনের গাফিলতি পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :