Facebook Twitter Instagram YouTube

নবীনগরে ওয়াজ মাহফিলের জেরে বাড়িতে হামলা, লুটপাট: ৬০ লাখ টাকার মালামাল খোয়া


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৪, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ /
নবীনগরে ওয়াজ মাহফিলের জেরে বাড়িতে হামলা, লুটপাট: ৬০ লাখ টাকার মালামাল খোয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে একটি ওয়াজ মাহফিলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর গ্রামের যুবকরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চরলাপাং গ্রামের মেঘনা নদী তীরবর্তী বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এ সময় মহিলাদের মারধর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

ঘটনাটি গত রোববার দিবাগত রাত দেড়টায় চরলাপাং গ্রামে ঘটে। এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার রাতে চরলাপাং গ্রামে ওয়াজ মাহফিল শুনতে এসে মির্জাচর গ্রামের যুবকরা চরলাপাং গ্রামের যুবকদের সঙ্গে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মির্জাচরের যুবকরা নিজেদের গ্রামে ফিরে যায় এবং ওই রাতেই নৌকাযোগে দলবলসহ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চরলাপাং গ্রামের মেঘনা নদী তীরবর্তী বাড়িঘরে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুর করে, মহিলাদের মারধর করে এবং ফাঁকা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

হামলার শিকার হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে হোসেন মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান, নছর মিয়া, খায়ের মিয়া, আবুল কাশেম এবং উজ্জল মিয়ার পরিবারের লোকজনকে মারধর করা হয়। তাদের বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করা হয়। এছাড়াও আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে হামলাকারীরা বীরদর্পে নদী পার হয়ে চলে যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ঘটনা দুর্ধর্ষ ডাকাতির চেয়েও ভয়ানক ছিল। হামলাকারীরা পিস্তল, শর্টগানসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। স্থানীয়রা হামলাকারীদের নাম-ঠিকানা জানলেও, পরবর্তী হামলার আতঙ্কে কেউ তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, মেঘনা নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা চরম আতংকে প্রতিটি রাত কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোরশেদ আলম চৌধুরী আমার দেশকে জানান, চরলাপাং গ্রামের ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তিনি আশ্বাস দেন, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ২৬আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ২৮

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh