
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও কর্মীদের মারধরের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়ার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ দাখিলের পর এনসিপির নেতারা এখন পুলিশের পদক্ষেপ ও আসামিদের গ্রেপ্তারের অপেক্ষায় আছেন।
উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার। তিনি জানান, এনসিপি নেতাদের সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কথা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এটি সদর মডেল থানায় মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ১১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগে বাদী করা হয়েছে হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তারেক রুবেলকে।
অভিযোগ দেওয়ার সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুলিশ যদি তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে চায় এবং দলীয়করণের ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আসামিরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এটি মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার পুরনো স্বৈরাচারী পথেই হাঁটছে এবং অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তিনি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন না করা এবং সন্ত্রাসনির্ভর রাষ্ট্র ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।
উল্লেখ্য, হামলার ঘটনার আগে ও পরে হবিগঞ্জে বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা সমাবেশের ডাক দেওয়া হলে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। এর আগে শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে এনসিপির গাড়িবহর পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। ঘণ্টাখানেক বাগ্বিতণ্ডার পর বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে তারা হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন। রাতে অভিযোগ দাখিলের পর এনসিপি নেতারা মৌলভীবাজারের দিকে চলে যান এবং মহাসড়কের যানজট স্বাভাবিক হয়।
আপনার মতামত লিখুন :