Facebook Twitter Instagram YouTube

দালাল ও টেস্ট বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ /
দালাল ও টেস্ট বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে স্থানান্তর, টেস্ট বাণিজ্য, কমিশনভিত্তিক রোগী রেফার এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে পাশের বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করা, রোগীকে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা কিংবা কমিশনের বিনিময়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যসেবাকে কোনোভাবেই বাণিজ্যের হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না এবং সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী সরিয়ে নেওয়া দালাল চক্রের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অনিয়মের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি টেন্ডারে এমন সব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে থাকে। এ ধরনের অনিয়ম রোধে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এছাড়া আগের সরকারের সময়ে অবকাঠামো ও জনবল ছাড়াই কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার ফলে অনেক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮৫ শতাংশ। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে অর্থ অব্যয়িত থাকার পেছনে আর্থিক অনিয়মের চেয়ে প্রশাসনিক জটিলতা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডায়ালাইসিস সেবা নিয়ে বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস সেবা পরিচালনা করবে, যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি রোগীদের খরচ কমাবে। এছাড়া প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের এআই-সমৃদ্ধ কিট, স্মার্টফোন ও সাইকেল দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও লিপিড প্রোফাইলসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।

অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে সিভিল সার্জন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে আকস্মিক পরিদর্শন জোরদার করা হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ছাড়া পরিচালিত অনেক ক্লিনিক ইতিমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din