
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি না হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মূলত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলো দিয়ে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা দেওয়ায় এই দরপতন হয়েছে। তবে এই সাময়িক দরপতন সত্ত্বেও মাসিক হিসেবে তেলের দাম প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ বৃদ্ধির পথেই রয়েছে।
গ্রিনিচ মান সময় শুক্রবার ০২:১৫ টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ব্রান্ডের তেলের দাম ১.০৩ ডলার বা ১.২ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ব্রান্ডের তেলের দাম ১.৫০ ডলার বা ১.৮ শতাংশ কমে ৮২.০৯ ডলার হয়েছে। তবে এই দুই বেঞ্চমার্কেরই মাসিকভিত্তিতে প্রায় ২০ শতাংশ দর বৃদ্ধির রেকর্ড হতে যাচ্ছে।
আইএনজি-এর বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাইনস জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধির লক্ষণ অপরিশোধিত তেলের দাম কমাতে সহায়তা করেছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালীটি অবরুদ্ধ থাকায় তা তেলের বাজারের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর এবং জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে সৌদি আরব একটি বহুজাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিবুতি, মিশর, পাকিস্তান, সুদান ও তুরস্কসহ মোট ১৪টি দেশ এই সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্যেই ইয়েমেনের হুথিরা গত সপ্তাহে সৌদি আরবের ওপর একটি নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে, যা হরমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত সৌদি আরবের তেল রপ্তানির লোহিত সাগর রুটকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ফিলিপ নোভা-এর বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেবা বলেন, হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল অব্যাহত থাকলেও উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মালবাহী ভাড়া ও বীমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি তেলের দামে একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি যুক্ত করেছে। তবে তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ দাম থেকে মূল্য কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে তেলের বাজার পরিস্থিতি এখনো বেশ শক্তিশালী রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :