Facebook Twitter Instagram YouTube

চলে গেলেন ইতালির বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঙ্কো বারেসি


প্রকাশের সময় : জুলাই ৩১, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ /
চলে গেলেন ইতালির বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঙ্কো বারেসি

ইতালির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই। ৬৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুর খবরটি আজ নিশ্চিত করেছে তাঁর দীর্ঘদিনের ক্লাব এসি মিলান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মিলান জানিয়েছে, বারেসির প্রয়াণে তারা গভীরভাবে শোকাহত। বিবৃতিতে ক্লাবটি উল্লেখ করেছে, তাঁর আদর্শ ও সততা এসি মিলানের ডিএনএতে চিরকাল খোদাই করা থাকবে, ঠিক যেভাবে তাঁর ঐতিহাসিক ৬ নম্বর জার্সিটি অমর হয়ে আছে।

১৯৬০ সালের মে মাসে লোম্বার্দিতে জন্ম নেওয়া বারেসি ১৯৭৪ সালে এসি মিলানের বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সের আগেই ১৯৭৮ সালে তিনি ক্লাবটির মূল দলে জায়গা করে নেন। মিলানের হয়ে ক্যারিয়ারের ২০টি বছর কাটিয়েছেন তিনি। ৭১৯টি ম্যাচ খেলেছেন এই ক্লাবের জার্সিতে, যা ক্লাবের ইতিহাসে পাওলো মালদিনির পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রক্ষণভাগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এই খেলোয়াড়কে ঘিরে পাওলো মালদিনি, মাউরো তাসোত্তি ও আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তাকে নিয়ে এসি মিলান যে রক্ষণভাগ তৈরি করেছিল, তা ছিল প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকারদের জন্য এক আতঙ্কের নাম।

খেলোয়াড় হিসেবে বারেসি ছিলেন অনন্য। তাঁর নিখুঁত ট্যাকলিং, খেলা আগেভাগে বোঝার ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণের কারণে তাঁকে ‘কাইজার ফ্রাঞ্জ’ বলেও ডাকা হতো। এসি মিলানের হয়ে তিনি তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং ছয়টি লিগ শিরোপাসহ মোট ১৯টি ট্রফি জিতেছেন। আশির দশকের শুরুতে ক্লাবটি যখন সিরি ‘বি’-তে নেমে গিয়েছিল, তখনও তিনি দল ত্যাগ করেননি; বরং দলকে শীর্ষ লিগে ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৯৭ সালে অবসরের পর তাঁর সম্মানে এসি মিলান ৬ নম্বর জার্সিটি চিরতরে তুলে রাখার ঘোষণা দেয়, যা ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের জন্য বিরল সম্মান ছিল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলেও বারেসির অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ১৯৮২ সালে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। যদিও সেই আসরে খেলার সুযোগ পাননি, তবে ১৯৯০ বিশ্বকাপে তিনি অলস্টার দলে জায়গা করে নেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে ইতালিকে ফাইনালে তুললেও টাইব্রেকারে গোল করতে পারেননি। ১২ বছরের জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে ৮১ ম্যাচে ১ গোল করা বারেসি ইউরো ১৯৮০ ও ১৯৮৮-তেও ইতালির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বড় ভাই জিউসেপ্পে বারেসির সঙ্গে ১৯৮০ ইউরোয় জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ হয়েছিল তাঁর।

বারেসির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে ২০২৫ সালের আগস্টে ফুসফুসের টিউমার অপসারণের জন্য তাঁর একটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল। এর কিছুদিন পর তিনি জানিয়েছিলেন, সম্পূর্ণ শক্তি ফিরে পেতে তাঁর সময় প্রয়োজন। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ডিফেন্ডারের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে।

তবে ১৯৮২ সালে বেঞ্চে বসে বিশ্বকাপ জয়ের পর জাতীয় দলের কোচের সঙ্গে মতভেদের কারণে ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে দলে জায়গা পাননি।

ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই বিরল সম্মান লাভ করেন বারেসি।.হাঁটুর অস্ত্রোপচারের মাত্র ২৫ দিন পর ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১২০ মিনিটের পুরোটা সময় বারেসির অসাধারণ খেলার গল্প এখন ফুটবলে রূপকথার অংশ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo