Facebook Twitter Instagram YouTube

মরক্কো সীমান্ত দিয়ে সেউতায় প্রবেশের সময় ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যু


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১, ২০২৬, ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ / ০
মরক্কো সীমান্ত দিয়ে সেউতায় প্রবেশের সময় ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যু

মরক্কো সীমান্ত অতিক্রম করে গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনের ছিটমহল সেউতায় ঢুকে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সীমান্ত পার হওয়ার সময় অন্তত ৫৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যদিও তিনি মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেননি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্থল ও জলপথ ব্যবহার করে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। অনেকে সমুদ্রের পানি সাঁতরে সীমান্ত বেড়া পার হয়েছেন। এই ঘটনাকে স্পেনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে সেউতা থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। সেউতায় সিভিল গার্ড কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রশিদ সাবিহি এই পরিস্থিতিকে মারাত্মক মানবিক সংকট বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, অভিভাবকহীন শিশুসহ হাজার হাজার অভিবাসী ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন, আবার কেউ কেউ তারাজাল সৈকতের বাঁধ টপকানোর সময় পদদলিত হয়েছেন।

মরক্কোর সীমান্ত ফটকগুলোতে জলকামান মোতায়েন করে অভিবাসীদের ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেখানে সংঘর্ষের পর বাস ও সাতটি গাড়ির ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানালেও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে দিয়েছে।

অভিবাসীদের এই ঢলের পেছনে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা বা গুজব কাজ করেছে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। তিনি বলেন, মানব পাচারকারী চক্রগুলো এই রায়কে নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করে গুজব ছড়িয়েছে। তবে মরক্কোর অধিকারকর্মীরা এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এই পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালি এই ঘটনায় স্পেনের প্রতি সমর্থন ও সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফ্রান্স তাদের সীমান্তে তল্লাশি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শেনজেন চুক্তি স্থগিত করার হুমকি দিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo