
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরান হলের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ তোলায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দুই বছর তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ১০টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন—পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারা দুজনেই শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত রবিবার তাদের দলীয় পদ থেকেও বহিষ্কার করে ছাত্রদল।
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম জানান, তদন্ত ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বহিষ্কৃত ছাত্ররা দুই বছর পর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ফিরতে পারলেও কোনো আবাসিক হলের সিট পাবেন না। এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার চিকিৎসার সমস্ত খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, হলের খাবারের মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ক্ষোভ প্রকাশ করায় গত শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক ছাত্র খাইরুল খন্দকারকে মারধর করেন অভিযুক্তরা। আহত খাইরুলকে পরবর্তীতে সিলেট শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আপনার মতামত লিখুন :