
নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গ–এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন সাংসদকে জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে একটি বাসে তোলে। পরবর্তীতে তাদের আটক করা হয়।
শিক্ষার্থী সংগঠন সিজেপি (সিজেপি)–এর মিছিলে পুলিশের কঠোর অভিযানের প্রতিবাদে এই অবস্থান কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছিল। এতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এবং কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা ও বহু কর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজাজী মার্গ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়া মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়।
আটকের সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা কাপুরুষ ও ভীতু। আমরা তাদের ভয় পাই না, বরং তারাই আমাদের ভয় পায়। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, পুলিশি অভিযানে আহতদের দেখতে তিনি রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
আটক থাকা অবস্থায় রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, এটি কোনো সমাপ্তি নয়, বরং রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা। তিনি আরও বলেন, তারা আমাদের জেলে পাঠাতে পারে, কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে যেসব লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়েছে, মোদিজিকে তাদের প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং দাবি করেছেন, বিক্ষোভস্থল পরিদর্শনের সময় রাহুল গান্ধী প্রথমে কথা দিয়েছিলেন যে পার্লামেন্টে আলোচনার সুযোগ দিলে তিনি অবস্থান ধর্মঘট তুলে নেবেন। কিন্তু সরকার সেই দাবি মেনে নেওয়ার পর তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের নতুন শর্ত জুড়ে দেন এবং আইন অমান্য করে অনশনস্থলেই অবস্থান করেন।
এ ঘটনার জেরে ভারতীয় পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে তুমুল হট্টগোল সৃষ্টি হয়, যার ফলে সংসদীয় অধিবেশন বারবার মুলতবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন স্পিকার। রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :