Facebook Twitter Instagram YouTube

মোদি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের সিজেপি আন্দোলন


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ /
মোদি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের সিজেপি আন্দোলন

ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মে মাস থেকে তরুণদের এই ক্ষোভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, তার সমর্থকরা শুধু মোদির সরকার নয়, বিরোধী দলগুলোর প্রতিও আস্থা হারিয়েছেন, কারণ কেউই তাদের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি।

সোমবার দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহারের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। পুলিশের অভিযানে বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার প্রেক্ষিতে সিজেপি নেতারা বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের কাছে সরাসরি সমর্থনের আহ্বান জানান। এর পর থেকেই বিরোধী নেতারা সরব হয়ে ওঠেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংহতি বিরোধী দলগুলোর জন্য তরুণ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, যদিও এর মাধ্যমে সিজেপির মূল দাবিগুলো—প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি—বৃহত্তর রাজনৈতিক এজেন্ডার আড়ালে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

সোমবারের বিক্ষোভে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। সিজেপি স্পষ্ট করেছে যে তারা নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেবে না, তবে বিরোধী দলের সাংগঠনিক সহায়তা ও জাতীয় পরিচিতি তাদের আন্দোলনের জন্য সহায়ক হতে পারে। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার মনে করেন, সরকারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জনমত তৈরি হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো এই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। তবে সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলোর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক সুবিধা নিতে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে ভারতের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি এখনো প্রকাশ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মন্তব্য না করলেও, মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াইয়ের মতে, উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের সমর্থক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সিজেপি মুখপাত্র অবশ্য জানিয়েছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিক্ষোভ নয়, বরং সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং তারা রাজনৈতিক কর্মকা-কে এখানে প্রশ্রয় দেবেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সন্দীপ শাস্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, আলোচিত আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর যোগ দেয়ার প্রবল প্রলোভন থাকে, কিন্তু তারা বেশি সক্রিয় হয়ে গেলে আন্দোলনের প্রকৃত উদ্যোক্তা ও মূল দাবিগুলোই শেষ পর্যন্ত আড়ালে চলে যেতে পারে।

তরুণদের ভোটে নজর বিরোধীদের২০১৪ সালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নরেন্দ্র মোদির কাছে একের পর এক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে বিরোধীরা। ভারতের ১৪২ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষের বয়স ৩০ বছরের নিচে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না হওয়ায় এই তরুণদের

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin