Facebook Twitter Instagram YouTube

বাগেরহাটের কচুয়ায় চাঞ্চল্যকর তিন খুনের রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৩


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ /
বাগেরহাটের কচুয়ায় চাঞ্চল্যকর তিন খুনের রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাটের কচুয়া থানার চাঞ্চল্যকর তিন খুনের মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম, আসাদুল শেখ ও মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কালো রঙের 'ZENX-2' মডেলের মোবাইল ফোন ও একটি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট রাতে কচুয়া থানার চান্দেরখোলা এলাকায় এই তিন খুনের ঘটনা ঘটে। পরদিন ৩ আগস্ট খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ।

মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ প্রথমে জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে আসাদুল শেখকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসাদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও চার্জারটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। নিহত পরিবারের এক নারী সদস্যের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে একটি সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যরা জেনে গেলে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে জাহিদুল ইসলাম অন্যদের সহযোগিতায় এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর পরিকল্পনা করেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাদের চূড়ান্তভাবে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা আলামতগুলোও অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy