Facebook Twitter Instagram YouTube

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারির আহ্বান জাতিসংঘের ফলকার টুর্কের


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ /
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারির আহ্বান জাতিসংঘের ফলকার টুর্কের

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

ফলকার টুর্ক বলেন, তারা ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের ওপর নজরদারি করতে পারে এমন একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান তৈরির আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে ৪৪টি সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড তদারকিতে স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বেসামরিক জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এছাড়াও ওই প্রতিবেদনে জাতিসংঘের বিভিন্ন ট্রিটি বডির সুপারিশের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, কমিশনকে পর্যাপ্ত সম্পদ প্রদান এবং প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।

এদিকে, মানবাধিকার সংগঠন ও আইনবিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি প্রণীত গুমবিরোধী আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই আইনগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এগুলোতে প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, তদন্তক্ষমতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo