Facebook Twitter Instagram YouTube

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে জাপানের ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ /
রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে জাপানের ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতেও বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া বাংলাদেশের ওপর তৈরি হওয়া এই বিশাল চাপের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপানের অনুদান ও মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তার আলোচনার কথা উল্লেখ করে সাসাকাওয়া বলেন, মিয়ানমার সরকার এ সংকট সমাধানে আন্তরিক হলেও রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে নিজের অবস্থান থেকে এ সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ দূত বিষয়টি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, সরকার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বৈঠকে ইয়োহেই সাসাকাওয়া বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে তার কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আসার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এই সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din