Facebook Twitter Instagram YouTube

ঢাকার যানজট কমাতে ৪ বাস টার্মিনাল দ্রুত সরানোর উদ্যোগ


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ /
ঢাকার যানজট কমাতে ৪ বাস টার্মিনাল দ্রুত সরানোর উদ্যোগ

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান—এই চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বাস ডিপোগুলোকে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সচিবালয়ে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে সড়ক পরিবহণ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বাসসকে এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, শহরের ভেতরে বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপের কারণেই মূলত রাজধানীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থানে টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে কাচপুর ও পূর্বাচলের মতো জায়গাগুলো ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সাময়িকভাবে বিদ্যমান ডিপোগুলোতে টার্মিনালের কিছু অংশ সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া, গাবতলী বাস টার্মিনালকে আরও সম্প্রসারণ করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। গাবতলীর পাশে থাকা নতুন জায়গাগুলো কীভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশমুখে গণপরিবহনের চাপ কমাতে এসব বিকল্প অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ আরও বলেন, শুধু রাজধানীর ভেতরে যানজট নিরসন করলেই হবে না, বরং বৃহত্তর ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। ঢাকার প্রবেশ ও বহির্গমন পথ সচল রাখতে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী করা হবে।

সভায় সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালগুলোর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব টার্মিনালে বাসের কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে এসি বাসগুলোর জন্য নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পরিবহন মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, শুধু রাস্তা প্রশস্ত করা বা নতুন রাস্তা তৈরি করলেই যানজট কমবে না। এর জন্য টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বাসের সুশৃঙ্খল চলাচল, পার্কিং, কাউন্টার ব্যবস্থাপনা এবং প্রবেশ ও বহির্গমনপথে যানবাহনের চাপ—সব বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রতিবেদনটি ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল ০৬:০৩ মিনিটে প্রকাশ করা হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor