
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধ করা হলে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংকে (আইআরআইবি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালির বিষয়ে ইরানের বর্তমান অবস্থান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত। ওয়াশিংটন যদি ইরানকে সামরিকভাবে হুমকি দেওয়া এবং হামলা চালানো বন্ধ করে, তবে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ উন্মুক্ত রাখবে।
মোহসেন রেজাই আরও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক এলাকা তৈরির পরিকল্পনা করছে ইরান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এর সীমানা নির্ধারণ করা হতে পারে। প্রস্তাবিত এই এলাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের রেখা থেকে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, নতুন নির্ধারিত এই এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে সেটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথ নিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাক্ষাৎকারে রেজাই দাবি করেন, ইরানি বাহিনী জর্ডানের টাইটান ঘাঁটি এবং ইরবিলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো শনাক্ত করেছিল, তবে ইচ্ছাকৃতভাবেই সেগুলোতে হামলা চালানো হয়নি। তার ভাষ্যমতে, ইরানের এই সামরিক কৌশলের ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সংঘাত মোকাবিলার পদ্ধতি নতুন করে মূল্যায়ন করতে হয়েছে।
লেবানন ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রসঙ্গে রেজাই বলেন, ইসরায়েলের সামরিক চাপের মুখেও হিজবুল্লাহ সুবিধাজনক অবস্থান ধরে রেখেছে এবং কোনো যুদ্ধকে কেবল জয়-পরাজয়ের হিসাব দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। রেজাইয়ের এই বক্তব্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :