Facebook Twitter Instagram YouTube

মুদ্রাস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খরচে সচেতনতা ও সঞ্চয়ের কৌশল


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ /
মুদ্রাস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খরচে সচেতনতা ও সঞ্চয়ের কৌশল

বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৯ শতাংশের বেশি। এর সহজ অর্থ হলো, এ বছর যে জিনিসের দাম ১০০ টাকা, আগামী বছর তা ১০৯ টাকার বেশি হবে। একদিকে আয় কমছে, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খরচ। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার এই সময়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। ঘনঘন রেস্টুরেন্টে খাওয়া, অতিরিক্ত দামি কাপড় কেনা কিংবা অকারণে ঘুরতে যাওয়ার মতো অভ্যাসগুলো কমিয়ে আনতে হবে। যেসব খরচ না করলেও চলে, সেগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়া প্রয়োজন।

আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আয়কে তিন ভাগে ভাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আয়ের ৫০ শতাংশ পরিবারের খরচের জন্য, ২০ শতাংশ পরিবারের বাইরের জরুরি প্রয়োজনে এবং ৩০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। তবে টাকা ব্যাংকে অলস ফেলে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বাংলাদেশে ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদের হার ৭ শতাংশ, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংশ। ফলে ব্যাংকে টাকা জমিয়ে রাখলে দিনশেষে তার মান কমে যায়। তাই মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি মুনাফা দেয় এমন হালাল বিনিয়োগের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

অতিরিক্ত খরচের অভ্যাস কেবল আর্থিক সংকটই তৈরি করে না, দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সমস্যারও কারণ হতে পারে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ক্রেডিট কার্ডে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা শুধু রেস্টুরেন্টের বিল আসাটা একটি বাজে অভ্যাস। এখন একটি নির্দিষ্ট পলিসি মেনে চলা হয়: খরচের নতুন কোনো খাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সেই খরচের জন্য আগে বাড়তি আয়ের উৎস তৈরির চেষ্টা করা হয়। নতুন আয়ের পথ তৈরি করতে না পারলে সেই খরচ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বিদ্যমান আয় থেকে নতুন কোনো বিলাসিতায় ব্যয় করা বোকামি।

গাড়ি কেনার উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, একটি গাড়ি মানে মাসে লক্ষাধিক টাকার খরচ। সেই খরচের জন্য বাড়তি এক লক্ষ টাকা আয়ের পথ তৈরি করেই গাড়ি কেনা যৌক্তিক, নতুবা গাড়ি আর হাতি পোষা একই কথা। আগামী দিনগুলোতে টিকে থাকতে হলে হিসাবি হওয়া প্রয়োজন, তবে হিসাবি হওয়ার মানে কৃপণতা নয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh