
২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাকরিচ্যুত এবং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ৮ হাজার ৭৯৬ জন সদস্যের চাকরিতে পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই ঘটনার পর মোট ৬ হাজার ২৮৬ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ২ হাজার ৫১০ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
২০২৬ (2026) সালের ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এই সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কোনো নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। ফলে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার আসামি হওয়া চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদেরও চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ক্ষতিপূরণসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীতে আন্দোলনে নেমেছিলেন চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ২০০৯ সালে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ হয়ে তাঁরা চাকরি হারিয়েছিলেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিডিআরের সদরদপ্তরে নৃশংস বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মাথায় সংঘটিত ওই হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। এই ঘটনার পর বাহিনীটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং তাদের পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :