Facebook Twitter Instagram YouTube

বাব এল-মান্দেবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ, ট্রাম্পের কাছে সৌদির সামরিক সহায়তা চেয়ে ব্যর্থতা


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ /
বাব এল-মান্দেবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ, ট্রাম্পের কাছে সৌদির সামরিক সহায়তা চেয়ে ব্যর্থতা

ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। শুক্রবার প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন বা পারিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে তারা। এই কৌশলগত জলপথের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ এখন আরও সুসংহত হয়েছে।

ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী মায়ুন দ্বীপ থেকে সরে যাওয়ার পর হুতি যোদ্ধারা নৌকায় করে সেখানে পৌঁছায় এবং দ্বীপটির পূর্ণ দখল নেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, হুতিরা এখন বাব এল-মান্দেব এলাকা ও দ্বীপটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দ্বীপের পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রণালির ওপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি হুতি যোদ্ধারা উপকূলজুড়ে সামরিক যান নিয়ে টহল দিচ্ছে।

বাব এল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি। এর মাধ্যমে পণ্যবাহী জাহাজ লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালের দিকে যাতায়াত করে, যা সৌদি আরবের তেল পরিবহনের জন্য অপরিহার্য। এই প্রণালির আশপাশে জুকার, মায়ুন, গ্রেট হানিশ ও লিটল হানিশ—এই চারটি কৌশলগত দ্বীপ রয়েছে। বৃহস্পতিবার হুতিরা জুকার দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি হানিশ দ্বীপপুঞ্জে সরকারি বাহিনীর সেনাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হানিশে অবরুদ্ধ দুই হাজারের বেশি সেনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের আত্মসমর্পণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবরুদ্ধ সেনারা খাবার, পানি ও উদ্ধার সহায়তা চেয়েছেন এবং তাঁদের উদ্ধারে বিমান পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে, ইয়েমেনের এই নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, যুবরাজ প্রথমবার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং কয়েক ঘণ্টা পর পুনরায় ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার অনুরোধ জানান। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে সাড়া দেননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সৌদিতে অবস্থানরত দুই শতাধিক মার্কিন সেনা রিয়াদকে ‘নন-কাইনেটিক সহায়তা’ প্রদান করছেন।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম দফার ফোনালাপের সময় হুতিরা বাব এল-মান্দেবের কাছের উপকূলীয় শহর মোচার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং পরবর্তীতে তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণও গ্রহণ করে। মায়ুন দ্বীপ দখলের মধ্য দিয়ে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিজেদের আধিপত্য আরও বাড়িয়ে তুলল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din