Facebook Twitter Instagram YouTube

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন: গুজব ছড়ালে ১০ বছরের কারাদণ্ড


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ /
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন: গুজব ছড়ালে ১০ বছরের কারাদণ্ড

সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য প্রকাশ বা প্রচারের মতো অপরাধের শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়া তৈরি করেছে সরকার। বর্তমান আইনে গুজব ও অপতথ্য প্রচারের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান না থাকলেও, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এর পরিধি ও শাস্তি উভয়ই বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ গত ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আইনটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভুঞা জানান, গণমাধ্যমের সঙ্গে এটি প্রাথমিক বৈঠক এবং বিভিন্ন শ্রেণির অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে ২৯ জুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আইনটি সংশোধনের জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীকে প্রধান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়।

নতুন খসড়ায় মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা ও বুলিংয়ের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত তৈরি, সংরক্ষণ, প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচারের হুমকিকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত তথ্য-উপাত্তের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ অপরাধের শাস্তিও বর্তমানের সর্বোচ্চ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষত নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে একই অপরাধের শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে আদালতকে কোম্পানির নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোম্পানির সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, সমিতি, সংঘ, সংগঠন, ট্রাস্ট ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাকে এর আওতায় আনা হয়েছে। গুরুতর অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে এবং অন্যান্য অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করার বিধান রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা, সাইবার সন্ত্রাস, হ্যাকিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন এবং গুজব প্রচারের মতো অপরাধগুলো সাইবার ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত থাকবে।

খসড়ায় 'গুজব' বলতে জনমনে বিভ্রান্তি বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারী অসমর্থিত তথ্য এবং 'অপতথ্য' বলতে ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্র বা ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি মিথ্যা বা বিকৃত তথ্যকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়া আপত্তিকর কনটেন্ট ব্লকের ক্ষমতার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্লক করা কনটেন্টের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বাতিলের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din