
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন (বামা)-এর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে জারিকৃত এই আদেশের উদ্দেশ্য হলো বামা-কে বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন এসোসিয়েশন (বিসিপিএ)-এর সঙ্গে একীভূত করা। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ৮ ধারা এবং বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ১০ বিধির ক্ষমতাবলে বামা-এর ২০২২ সালে প্রদত্ত ১৩/২০২২ নম্বর লাইসেন্সটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বালাইনাশক ব্যবসার ক্ষেত্রে একই উদ্দেশ্য ও পরিধি নিয়ে একাধিক সংগঠন থাকায় আমদানি, উৎপাদন ও বিতরণে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বামা-এর অধিকাংশ সদস্যই ইতিমধ্যে বিসিপিএ-এর সদস্য হিসেবে রয়েছেন। বর্তমানে বিসিপিএ-এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১২০০, যেখানে বামা-এর সদস্য মাত্র ২০টি প্রতিষ্ঠান। একই খাতে একাধিক সংগঠনের পরিবর্তে একটি মাত্র সংগঠন থাকাকেই যুক্তিযুক্ত মনে করছে মন্ত্রণালয়।
এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বামা-এর সভাপতি কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পুনরায় শুনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, এর আগে অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিসিপিএ দেশে বালাইনাশক উৎপাদনের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিসিপিএ গত ২৫ বছর ধরে কেবল আমদানিনির্ভর ব্যবসা করে আসছে এবং তারা দেশে উৎপাদন, বিনিয়োগ বা কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে আগ্রহী নয়। রেডি টু ইউজ কীটনাশক আমদানি এবং কাঁচামাল বা অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট আমদানির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কীটনাশক প্রস্তুত করার প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, পিজিআর এসোসিয়েশন বা মসকিউটো কয়েল ম্যানুফ্যাকচারার এসোসিয়েশনের মতো বামা-এর ক্ষেত্রে ভিন্নতা না রাখাটা বাণিজ্য স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তিনি জানান, আমদানি ও উৎপাদনের একক বাণিজ্য সংগঠনের ধারণাটি বৈশ্বিকভাবেও প্রচলিত নয়।
আপনার মতামত লিখুন :