
পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে ৬০০ কোটি টাকার বেশি প্রদেয় কর দাবি করে কর কমিশনারের দেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট আবেদন খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।
রায় ঘোষণার পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ জানান, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত মোট পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে সরকারের প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর অনাদায়ি ছিল। কর কমিশনারের এই কর দাবির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ দুটি রিট করেছিল। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রুল খারিজ করে দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এখন সরকারের এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে। আদালতের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট কর আদায়ের জন্য ৩০ দিনের সময় দিয়ে ডিমান্ড নোটিশ ইস্যু করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বিরুদ্ধে করা রিট দুটির রুল আদালত খারিজ করেছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পরেই এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের কর পুনঃমূল্যায়নের পর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এই কর দাবি করা হয়। এর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট কিছু নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন এবং কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করেন। ওই রায়ে বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লিভ টু আপিল করে। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টকে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন। পুনঃশুনানি শেষে একই বছরের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন। তবে ২৯ আগস্ট সেই বেঞ্চ রায়টি প্রত্যাহার করে নেয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়, বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক একসময় এই মামলাগুলোতে সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে লড়েছিলেন, যা রায়কে ত্রুটিপূর্ণ করতে পারত। এরপর মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হলে তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠান। সেই বেঞ্চে শুনানি শেষে আজ চূড়ান্তভাবে রিট দুটি খারিজ করা হলো।
আপনার মতামত লিখুন :