Facebook Twitter Instagram YouTube

সংসদে অকথ্য ভাষায় গালমন্দের শিকার হয়েছেন রুমিন ফারহানা


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ /
সংসদে অকথ্য ভাষায় গালমন্দের শিকার হয়েছেন রুমিন ফারহানা

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অকথ্য ভাষায় গালাগালির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এ ধরনের অশোভন আচরণ কোনো সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।

রুমিন ফারহানা জানান, গত বুধবার ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিলের ওপর বক্তব্য রাখার সময় তিনি সরকারি দলের সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের অনেক সদস্য হইচই করেন এবং অনেকে তাঁর প্রতি অশোভন ভাষা প্রয়োগ করেন। এই ঘটনার রেশ ধরে রুমিন প্রশ্ন তোলেন, এই সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের আদৌ কোনো সুযোগ আছে কি না। তিনি বলেন, বিল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তাতে সংসদে কোনো ‘ডিসেন্ট ভয়েস’ বা ভিন্নমত উত্থাপন করা সম্ভব বলে মনে হয় না।

তিনি আরও বলেন, তাঁর বক্তব্যের কোনো অংশে আপত্তি থাকলে বক্তব্য শেষ হওয়ার পর দাঁড়িয়ে তার জবাব দেওয়া যেত। কিন্তু বক্তব্য চলাকালীন ও পরে যে ধরনের আচরণ করা হয়েছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদে হওয়া কাম্য নয়। রুমিন স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, এই মহান সংসদে আমারই আশপাশের সংসদ সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন।”

এ সময় সরকারি দলের সদস্যদের হইচই করতে দেখা গেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হাত দিয়ে ইশারা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি সংসদে বাক্স্বাধীনতার পক্ষে এবং সরকারি কিংবা বিরোধী দলের কোনো সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের বাধা দেওয়া উচিত নয়। বুধবার যা ঘটেছে তা নিয়ে ভবিষ্যতে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি রুমিন ফারহানার অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

নিজের বক্তব্যে রুমিন ফারহানা ২০১৮ সালের সংসদের প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সে সংসদেও বিএনপির পক্ষে একা কথা বলতে গিয়ে তাঁকে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, কয়েক হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে সরকার পরিবর্তনের পরও যদি ন্যূনতম পরিবর্তন না আসে, তবে বিরোধী দল হিসেবে সংসদে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের আলোচনায় তিনি র‍্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, র‍্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ছিল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ এই সংস্থা বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। নতুন গঠিত সংস্থাটি যেন কেবল নাম ও পোশাক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি তদন্তব্যবস্থা ও আটক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো সদস্যের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের প্রাসঙ্গিক জবাব দিতে তিনি রাজি নন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বুধবারের বিলটি ছিল অর্থমন্ত্রীর একটি বিল এবং এর সঙ্গে রুমিনের উত্থাপিত অন্যান্য বিষয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না বলেই আপত্তি উঠেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo