
ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই পর্যালোচনার ফলাফল অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা হবে। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, যেখানে সরকারি দলের অন্যান্য হুইপরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের মতো বিতর্কিত চুক্তিগুলো বাতিলের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে চিফ হুইপ বলেন, সরকার সব চুক্তি ও এমওইউ নিয়ে আলোচনা করছে এবং দ্রুতই এর ফল পাওয়া যাবে। নয় কার্যদিবসের এই অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে এবং ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ১৫টি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করার বিষয়ে তিনি জানান, সরকার আর্থিক খাত শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এটি করতে চেয়েছিল, তবে জনমতের প্রতিক্রিয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গঠন প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম বলেন, ৩৯টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২৪টিতে বিরোধী দলের সদস্যদের রাখা হয়েছে, যা তাদের প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে সন্তোষজনক। সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি হিসেবে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, নতুন এই আইনের ফলে বাবা-মা তাঁদের জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পত্তি দান করার পরও তা ভোগ করার অধিকার পাবেন, যা বৃদ্ধ মা-বাবার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাস হওয়ার তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, অংশীজন ও ১৬ জন রাষ্ট্রদূতের পরামর্শের ভিত্তিতে এই আইনগুলোতে শাস্তির বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।
সরকারের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে নূরুল ইসলাম জানান, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ২০৫ কোটি ডলারের ঋণ গত পাঁচ মাসে পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা প্রসঙ্গে বলেন, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সময়সাপেক্ষ হওয়ায় দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো কঠিন। তিনি হাসিনা সরকারের বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তির বিধান এবং ক্যাপাসিটি চার্জের তীব্র সমালোচনা করেন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধনসহ সনদটি শতভাগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। পরে বিভিন্ন সময়ে সংশোধনী আনা হয়েছে। ভারতেও সংবিধান বহুবার সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
আপনার মতামত লিখুন :