Facebook Twitter Instagram YouTube

ময়মনসিংহের এমপিকে চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি, থানায় অভিযোগ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ /
ময়মনসিংহের এমপিকে চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি, থানায় অভিযোগ

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মুহাম্মদুল্লাহকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির হুমকি দিয়েছেন এক বিএনপি কর্মী। সোহরাব হোসেন নামের ওই ব্যক্তির একটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেনকে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিতে দেখা যায়।

ভিডিওবার্তায় হুমকিদাতা সোহরাব হোসেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের নাম উল্লেখ করে তাঁকে তাঁর লোক হিসেবে পরিচয় দেন। সোহরাব ভিডিওতে বলেন, 'আজকে লাস্ট কথা কইয়া দিলাম—আর কোনো দিন যদি লাইভে আইয়া তালুকদারের বিষয়ে কথা কইছস, তোর অবস্থা খারাপ কইরালবাম। একবারে চোখ তুইল্লালবাম।' তিনি সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং রমজান মাসে টুপি পরে দাওয়াতে অংশগ্রহণ নিয়ে কটাক্ষ করেন।

সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সরকার মোতাহার হোসেনকে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এমপি মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আতঙ্কিত না হলেও এ ধরনের উসকানি সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন দলের কোনো পদধারী নেতা নন, সর্বোচ্চ একজন সমর্থক হতে পারেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পরপরই ভিডিওটি ডিলিট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এমন আচরণ বরদাশত করা হবে না। এটি ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাশিদ জানান, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে এবং সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে কথা হয়েছে। শনিবার বেলা তিনটার দিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন উপপরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo