Facebook Twitter Instagram YouTube

সম্পর্ক গোপন রাখতে ঠিকাদারি লাইসেন্স দেওয়ার প্রলোভন, গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ /
সম্পর্ক গোপন রাখতে ঠিকাদারি লাইসেন্স দেওয়ার প্রলোভন, গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক জামায়াত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পর্ক গোপন রাখতে এবং তরুণীর বাবাকে বড় সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান দাবি করেছেন, তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে কোটিপতি বানানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন গাজী নজরুল। ওবায়দুরের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকার লোভে তরুণীর মা-বাবাও প্রথমে এই সম্পর্কের বিষয়ে কোনো আপত্তি করেননি। ওবায়দুর সম্পর্কে ওই তরুণী মরিয়াম বেগমের মামা এবং গাজী নজরুলের গাড়ি চালানোর পাশাপাশি তাঁদের আত্মীয়তার সম্পর্কও রয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে থাকা তরুণী মরিয়াম বেগমকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন ৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুল। তবে ওবায়দুর রহমানের দাবি, গত ২০ জুন এমপি হোস্টেলে গিয়ে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী নজরুল এটিকে 'মুতআ বিয়ে' (অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিয়ে) বলে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন। মুখ বন্ধ রাখতে ওবায়দুরকে একটি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ এবং এমপির এপিএস-২ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রলোভনও দেওয়া হয়েছিল।

ওবায়দুর রহমান জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই ঢাকার পল্লবীতে মরিয়ামদের ভাড়া বাসায় যাতায়াত ছিল গাজী নজরুলের। এমপি হোস্টেলে ফ্ল্যাট পাওয়ার পরও তিনি ঢাকা এলে ওই বাসাতেই থাকতেন। ওবায়দুর সম্পর্কের বিষয়টি পরিবারের সামনে আনলে মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেছিলেন, ‘এমপিকে হাতে রাখতে হবে। পাঁচ বছরে আমাদের অনেক কিছু করে নিতে হবে।’ এরপরই মাসুম বিল্লাহর নামে 'মাসুম এন্টারপ্রাইজ' নামে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন গাজী নজরুল। মাসুম ঠিকাদারি না বোঝায় খেজুরের ব্যবসা বন্ধ করে ওবায়দুরকেই টেন্ডারের কাজ দেখাশোনা করতে হয়েছিল।

ওবায়দুরের দাবি, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার দুটি সরকারি দপ্তরে পাঁচটি কাজের দরপ্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি পদে তাঁদের অনুকূল একজন প্রকৌশলীকে বদলি করে আনার জন্য স্বয়ং এমপি তদবির করেছিলেন। এছাড়া মরিয়ামকে জাতীয় সংসদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ওবায়দুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে গত ১৪ জুলাই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। অন্যদিকে, গাজী নজরুল অভিযোগ করেছিলেন যে গত ১৩ জুলাই মরিয়ামের বাবার অফিসে তাঁকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ওবায়দুর এবং তিনিই ভিডিওটি ফাঁস করেছেন।

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে এরই মধ্যে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। ঘটনার পর থেকে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে এবং তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহর ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ভিডিও ফাঁসের পর মরিয়াম এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন উভয় পরিবারের সম্মতিতে শ্যামনগরে তাঁদের বিয়ে হয়, যেখানে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। ১৩ জুলাই মগবাজারে তাঁর বাবার অফিসে পরিকল্পিতভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করে তাঁদের ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মরিয়াম।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo