
মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদের আগেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগের পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি তোলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে বিচারের আওতায় আনা যাবে, নাকি তাঁর দায়মুক্তি আছে—বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিরোধী দলগুলো মনে করছে, মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দোসর ছিলেন, তাই তাঁর বিচার হওয়া প্রয়োজন। কেউ কেউ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগের কর্মকাণ্ড নিয়েও বিচারের দাবি তুলছেন, আবার কারও মতে সংবিধানের ৫১ ধারা অনুযায়ী তিনি দায়মুক্তি পাবেন।
সংবিধানের ৫১(১) ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তাঁর কার্যভার পালনকালে বা পালনের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত কোনো কাজের জন্য আদালতের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। এছাড়া ৫১(২) ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কার্যকালীন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের বা অব্যাহত রাখা যাবে না এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা যাবে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সুরক্ষা কেবল রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য। পদত্যাগ বা অপসারণের পর এই সুরক্ষা আর কার্যকর থাকে না। বিশ্লেষকরা এ ক্ষেত্রে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের উদাহরণ টেনে বলছেন, পদত্যাগের পর তাঁকে কারাগারে যেতে হয়েছিল এবং দুর্নীতির মামলায় দণ্ডও হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি নিয়ে অনেকের আপত্তি ছিল। অক্টোবরে বঙ্গভবনের সামনে একাধিক সংগঠনের ব্যানারে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়, যেখানে তিন জন আহত হন। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন সংগঠনও একই দাবি জানিয়েছিল।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন দাবি করেছেন, ৫ আগস্টের পর সাংবিধানিক সংকট উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি এবং তাদের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছিলাম। তাঁর ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি। তবে পদত্যাগের ঘোষণার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অবিলম্বে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জামালপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, গণহত্যায় সমর্থন ও দুর্নীতির দায়ে তাঁকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নীরবে সহায়তা করার মতো নির্ভরযোগ্য আলামত পাওয়া গেলে কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না।
সাংবিধানিক সুরক্ষার বাইরেও মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতে ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে এস আলম গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যাংক ব্যবস্থা ধ্বংস ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকে মামলা চলমান। আইনজ্ঞদের মতে, অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হলেও সবকিছু সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্তব্য করেন যে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলা এখনো অনেক দ্রুত হয়ে যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :