
রামসার সাইট হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ১১ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সীমানার ভেতরে সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ এবং চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, হাওরে চলাচলকারী সকল নৌযানের মালিক ও পরিচালনাকারীদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করলে বা অনুমতি না থাকলে কোনো নৌযান পরিচালনা করা যাবে না। নিবন্ধন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য সুনামগঞ্জের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরের (এনডিসি) সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাওরের শৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষায় জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার বা পার্টির আয়োজন করা যাবে না। নৌযানে বাধ্যতামূলকভাবে সেপটিক ট্যাংক ও অন্তত দুটি ডাস্টবিন থাকতে হবে, এবং জলাশয়ে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ। এছাড়া একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না এবং নৌযানে অবশ্যই পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার রাখতে হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং যাত্রা শুরুর আগেই তা পর্যটকদের অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের নম্বর নৌযানে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, আকস্মিক ঝড়, বৃষ্টিপাত বা বজ্রপাতের আশঙ্কাকালীন পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং হাওরের সার্বিক সুরক্ষায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
আজ রোববার রাত ৮টায় গণবিজ্ঞপ্তিটি জেলা প্রশাসন, সুনামগঞ্জ-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’ -এর আলোকে পরিবেশ রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ১১ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :