Facebook Twitter Instagram YouTube

বেনজীরের মুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি দুদক


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ /
বেনজীরের মুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি দুদক

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি শুধুমাত্র গণমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন। আনুষ্ঠানিক তথ্য হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

দুদকের মহাপরিচালক দাবি করেছেন, এ বিষয়ে কমিশনের কোনো গাফিলতি ছিল না। তিনি বলেন, আন্তঃদেশীয় অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। দুদক থেকে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ও আইনি সহায়তার অনুরোধ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, যা পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছায়। বেনজীর আহমেদকে কোন গ্রাউন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে দুদক এখনো অবগত নয় বলে তিনি জানান।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন এবং ৩০ জুলাই তিনি কারামুক্ত হন। এর আগে, গত ১৬ জুন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল দুদক। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মামলার বিস্তারিত বিবরণসহ এই প্রস্তাব ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে পাঠানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন আবুধাবিস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশের এনসিবিকে চিঠি দিয়ে জানায় যে, ইউএইর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ইন্টারপোল ‘রেড নোটিশ’ জারি করে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দায়ের করা ১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানকালে বেনজীরকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হলে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সেখানে তিনি ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদ তার ঘোষণা করা সম্পদের মধ্যে ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৬০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ হাজার টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে দুদকের কাছে প্রমাণিত হওয়া ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট নবায়ন ও জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়। ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ ২০২১০ সালের ১১ অক্টোবর ডিআইজি হিসাবে কর্মরত থাকাবস্থায় হাতে লেখা পাসপোর্ট সমর্পণ করে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ব্যতীত অফিসিয়াল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এর জন্য আবেদন করেন।

বেনজীর পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৪টি মামলাসহ পাসপোর্ট জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিং মিলিয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমিসহ অঢেল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin