
জঙ্গলে এক গাধা বাস করত। স্বভাবগতভাবেই সে নিজেকে খুব নিচু চোখে দেখত এবং সব সময় নিজের অবমূল্যায়ন করত। একদিন পথ চলতে গিয়ে সে হঠাৎ সিংহের একটি চামড়া কুড়িয়ে পায়। চামড়াটি পাওয়ার পর গাধার মনে এক অদ্ভুত চিন্তার উদয় হয়। সে ভাবল, এটিই তার সেই সুযোগ, যার মাধ্যমে সে সবাইকে নিজের শক্তি প্রদর্শন করতে পারবে।
চামড়াটি গায়ে জড়িয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই গাধা নিজেকে হুবহু সিংহের মতো দেখতে পেল। আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ হয়ে সে বনের ভেতর ঘুরে বেড়াতে শুরু করল। তার এই নতুন রূপ দেখে বনের অন্যান্য প্রাণীরা ভয়ে দৌড়াতে শুরু করল। হরিণ পালিয়ে গেল, বন্য ছাগল দৌড়ে আত্মরক্ষা করল, আর বানররা ভয়ে গাছে উঠে আশ্রয় নিল। সবাইকে এভাবে ভয় দেখাতে পেরে গাধার বুক গর্বে ফুলে উঠল।
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিয়াল পুরো ঘটনাটি লক্ষ্য করছিল। সিংহের মতো সাজপোশাক দেখে সে প্রথমে অবাক হলেও তার হাঁটার ছন্দের মধ্যে গাধার মতো জড়তা লক্ষ্য করল। শিয়ালটি সতর্কভাবে একটি গাছে উঠে লুকিয়ে রইল এবং গাধার পরবর্তী আচরণের অপেক্ষায় থাকল।
এক পর্যায়ে গাধা এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়ল যে, সিংহের ভীতি বজায় রাখার যে নিয়ম, তা সে সম্পূর্ণ ভুলে গেল। সে উচ্চস্বরে চিৎকার করে উঠল, “হি ই ই ই হা আ আ আ!” শিয়াল তার এই ডাক শুনে হাসতে হাসতে অস্থির হয়ে গেল। সে গাছ থেকে নিচে নেমে এসে গাধাকে উদ্দেশ্য করে বলল, “বন্ধু, সিংহের চামড়া পরে সিংহ সাজা যায়, কিন্তু সিংহের গলা পাওয়া যায় না।”
নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যাওয়ায় গাধা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, মানুষ যতই দামী পোশাক পরুক বা নিজেকে বড় হিসেবে জাহির করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত তার আচরণ এবং কথার মাধ্যমেই তার আসল পরিচয় বেরিয়ে আসে। নিজেকে সত্যিকার অর্থে বড় করতে চাইলে চামড়া বা বাহ্যিক রূপ নয়, বরং নিজের চরিত্র পরিবর্তন করা প্রয়োজন। সেই সাথে মুখ বন্ধ রাখাও জরুরি, কারণ মুখ যত বেশি খোলা হবে, ততই বিপদের ঝুঁকি বাড়বে।
আপনার মতামত লিখুন :