
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য হয়েছে। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই পদে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে এখন নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে নতুন মহাসচিবের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে। অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপাতত একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তী সময়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত করা হবে।
দলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলে তাকেই পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার সম্ভাবনা রয়েছে। রিজভী দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দলের সাংগঠনিক ও দপ্তর পরিচালনার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
মহাসচিব পদের আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় নীতিনির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয়তার কারণে তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া এই পদের আলোচনায় আরও রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। তাদের দুজনেরই ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসার ইতিহাস রয়েছে এবং রাজপথের আন্দোলনে তারা বরাবরই সক্রিয় ছিলেন। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজপথের ভূমিকা এবং নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মতো বিষয়গুলো মূল্যায়ন করেই নতুন মহাসচিব বেছে নেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচিত চারজনের বাইরে অন্য কোনো নেতাকেও এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :