Facebook Twitter Instagram YouTube

টানা দুই ফাইনালে আর্জেন্টিনার দলের পার্থক্যের চিত্র


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ /
টানা দুই ফাইনালে আর্জেন্টিনার দলের পার্থক্যের চিত্র

কাতারের লুসাইল স্টেডিয়াম থেকে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম—লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দলের এই দুই ফাইনালের মধ্যে পার্থক্য কেবল সাড়ে তিন বছরের। কোচ লিওনেল স্কালোনি ২০২২ বিশ্বকাপে যে দলের ওপর ভরসা করে ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়েছিলেন, এবারও সেই মূল কাঠামোর ওপর ভর করেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছেন।

গত বিশ্বকাপের স্কোয়াডের গড় বয়স ছিল ২৭ বছর। সেই ২৬ জনের দলে ৩০–এর কোটা পার করেছিলেন ৭ জন, যার মধ্যে দুজন ছিলেন বেঞ্চে থাকা গোলরক্ষক। পাপু গোমেজ ও মার্কোস আকুনার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল ও হুলিয়ান আলভারেজের মতো তরুণরা শুরু থেকেই একাদশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আলভারেজ ও ফার্নান্দেজদের সঙ্গে মেসি ও আনহেল দি মারিয়ার রসায়নই ছিল শিরোপা জয়ের মূল চাবিকাঠি।

চার বছরে স্কালোনির সেই স্কোয়াডে মোট ৯টি জায়গায় পরিবর্তন এসেছে, তবে একাদশের বিবেচনায় বড় পরিবর্তন মাত্র দুটি—দি মারিয়ার অবসর এবং পাওলো দিবালার বাদ পড়া। গত বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং এবারের সেমিফাইনালের একাদশ তুলনা করলে দেখা যায়, দি মারিয়ার জায়গায় দলে এসেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে। স্কালোনি একই দলের ওপর ভরসা রেখে নতুন সমস্যার নতুন সমাধান খুঁজে বের করেছেন।

দি মারিয়া চলে যাওয়ায় আর্জেন্টিনার বাঁ প্রান্ত এখন কিছুটা অকার্যকর, বিশেষ করে তাগলিয়াফিকোর সঙ্গে আগের মতো রসায়ন আর নেই। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে স্কালোনি এনজো ফার্নান্দেজকে নতুন ভূমিকায় ব্যবহার করছেন। তবে গত বিশ্বকাপের মতো এবার তরুণদের ওপর শতভাগ ভরসা করতে পারছেন না তিনি। জুলিয়ানো সিমিওনে, নিকো গঞ্জালেজ ও নিকো পাজের মতো তরুণরা দলে থাকলেও, দেয়ালে পিঠ না ঠেকলে তাদের মাঠে নামাচ্ছেন না কোচ।

এর ফলে দলের সীমাবদ্ধতাগুলোও স্পষ্ট হচ্ছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ বাদে প্রতিটি ম্যাচেই আর্জেন্টিনা গোল হজম করেছে এবং কেপ ভার্দে ছাড়া প্রতিটি নকআউট ম্যাচ তাদের জিততে হয়েছে পিছিয়ে পড়ার পর। দলের এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের চাপ সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতার ওপর ভর করেই আর্জেন্টিনা এবার ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo