
কুয়েতের জ্বালানি খাতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ভয়াবহ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বারবার ইরানি হামলার শিকার হচ্ছে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'কুনা' জানিয়েছে, হামলার পরপরই আহত কর্মীদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই তেলক্ষেত্র থেকে সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কুয়েতের সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রক্ষা করে কাজ করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উৎপাদনে এই হামলার কোনো প্রভাব পড়বে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করাই তাদের বর্তমান অভিযানের মূল লক্ষ্য। আইআরজিসি-র মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, শত্রুপক্ষ যেন কোনোভাবেই এটি মনে না করে যে তারা যুদ্ধের বর্তমান গতিধারা বজায় রাখতে পারবে বা এই সংঘাতকে দীর্ঘমেয়াদী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপান্তর করতে পারবে।
মোহেব্বি আরও স্পষ্টভাবে জানান, ইরানি সামরিক বাহিনী বর্তমানে এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ও অবকাঠামো ধ্বংস করার দিকে মনোনিবেশ করছে। এই লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পরেই অভিযানের পরবর্তী ধাপগুলো পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। ইরানের একাধিক শহরে নতুন করে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবরের পরপরই আইআরজিসি মুখপাত্রের এই মন্তব্য সামনে এলো।
শনিবার (১৮ জুলাই) আল-জাজিরা এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :