Facebook Twitter Instagram YouTube

রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি প্রকল্পে কৃষিজমি ও বসতভিটা দখলের অভিযোগ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ৬:০২ পূর্বাহ্ণ /
রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি প্রকল্পে কৃষিজমি ও বসতভিটা দখলের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা রাজধানীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম, সার্জেন্ট ইলিয়াস পারভেজ, আবদুস সালাম, আহসান উল্লাহ মাস্টার, আইনজীবী নাজমুল ইসলাম এবং প্রভাষক নুর সালাম বক্তব্য রাখেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের এই আন্দোলন দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, বরং জলসিঁড়ি প্রকল্পের নামে জমি দখল, বালু ভরাট এবং বসতভিটা হারানোর আশঙ্কার বিরুদ্ধে।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ২০১০ সালে কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার প্রায় ৭ হাজার বিঘা কৃষিজমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেই সময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বালু ভরাটের মাধ্যমে তিন ফসলি কৃষিজমির একটি অংশ দখল করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় জলসিঁড়ি প্রকল্প-১-এর কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে জলসিঁড়ি প্রকল্প-২-এর জন্য সীমানা নির্দেশক নকশা তৈরি করে জমি ক্রয় না করেই বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় দুই শতাধিক বাসিন্দা রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়াও সহকারী পুলিশ সুপারের মাধ্যমে জমির আরএস দাগ নম্বর উল্লেখ করে প্রায় শতাধিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ইচ্ছাখালী খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। স্থানীয়দের মতে, খালটি নৌচলাচল, কৃষিকাজে সেচ এবং মাছ আহরণের প্রধান মাধ্যম ছিল। খালটি ভরাট হওয়ায় প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছেন। দ্রুত খাল থেকে বালু অপসারণ ও পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগীরা নয় দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—জমি ক্রয় ছাড়া বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করা, ইচ্ছাখালী খাল পুনঃখনন, আবাসন প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সীমানা ও মানচিত্র প্রকাশ, প্রকল্পের স্থান বসতবাড়ির বাইরে সরিয়ে নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh