Facebook Twitter Instagram YouTube

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং আজ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ /
আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং আজ

আনোয়ারায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য নতুন শিল্পাঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠান আজ সোমবার (২৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে চীনা বিনিয়োগের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে আশা করছে সরকার। প্রকল্পটিকে ঘিরে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ সিইআইজেড কম্পানি লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ানসহ উভয় দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন কেবল শিল্পাঞ্চল নির্মাণের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। ২০১৪ সালে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগে প্রকল্পটি শুরু হলেও ডেভেলপার নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘ সময় এটি ঝুলে ছিল। ২০২২ সালে চীনা সরকার চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করে। গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময়ের পর প্রকল্পটি নতুন গতি লাভ করে।

আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার চার হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং দুই হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট থেকে আসবে। প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, জেটি সংযোগ সড়ক ও সেতু, চার লেনের সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে প্রথম তিন বছরেই ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের প্রত্যাশা, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বস্ত্র, প্রযুক্তিনির্ভর তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, তথ্য-প্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যালস, মেডিক্যাল ডিভাইস ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্প গড়ে উঠবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে মোংলায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, বিডা ও সিসিপিআইটির মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং কেরানীগঞ্জে হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজের ২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

চীনা বিনিয়োগের প্রবণতাও এখন বাংলাদেশের পক্ষে ইতিবাচক। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভূমি ইজারা চুক্তি করেছে, যার সম্ভাব্য বিনিয়োগ ৭১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে ২৩টি প্রতিষ্ঠানই চীনা মালিকানাধীন বা চীনা যৌথ উদ্যোগের, যাদের সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রায় ৪৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ নতুন বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এসেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে। পোশাক খাতের বাইরে ড্রোন, সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, কপার পণ্য, মেডিক্যাল ডিভাইস, লজিস্টিকস ও হাইড্রোপনিক প্রযুক্তিতেও চীনা বিনিয়োগ বাড়ছে।

বিডা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৯২১ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন ও বৈদেশিক বিনিয়োগে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছে সরকার।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh