Facebook Twitter Instagram YouTube

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ আনলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ /
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ আনলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই শরতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। এ সময় তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছিলেন মেয়র মামদানি, যা নিয়ে নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি সব নিউইয়র্কবাসীর মেয়র হওয়ার কথা—ইহুদি, খ্রিস্টান কিংবা মুসলিম সবার। কিন্তু মামদানি এক সম্প্রদায়কে অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। নিউইয়র্কে ইহুদি ও এশীয়-আমেরিকানদের ওপর সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাতের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে শহরের ইহুদিরা ভীত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলার সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করেছিল এবং দুই ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে সংঘটিত হামলার জন্য তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে মেয়রের কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে গত সপ্তাহে মামদানি তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার কোনো স্বাধীন আইনি ক্ষমতা তার নেই। যদিও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারকে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্ক সিটি স্বাগত জানায় না।

ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সোচ্চার সমর্থক মামদানি গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণায় গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন। সে সময় তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আইসিসির ওই পরোয়ানায় গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইসরাইল ও নেতানিয়াহু বরাবরই ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে বলে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সংস্থাটির প্রকাশিত পরিসংখ্যানকে তারা নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin