Facebook Twitter Instagram YouTube

জ্বালানি সংকটে রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ /
জ্বালানি সংকটে রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা

জ্বালানি সরবরাহের কোনো নিশ্চিত ব্যবস্থা না থাকায় ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পটি এখন দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিচারপতি মইনুল কমিশন প্রকল্পটিকে রাষ্ট্রের অর্থ গচ্ছার একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

২০১৯ সালে গ্যাস সরবরাহের কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই সরকার এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গড়ে তোলে। ২০২২ সালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য থাকলেও জ্বালানির অভাবে তা সম্ভব হয়নি। নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রকল্পটি মূলত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত অভিলাসের অংশ ছিল। ভারত থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস আমদানির পরিকল্পনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। ফলে বর্তমানে প্রকল্পটি নিয়ে কোনো কুলকিনারা করতে পারছে না বর্তমান সরকার।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) এ প্রকল্পে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এর বাইরে সরকারের নিজস্ব ব্যয় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো) এখন এই ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপে রয়েছে। তবে বিপুল এই অর্থ অপচয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রকল্পটির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর খুলনার রূপসায় নিউজপ্রিন্ট মিলস্ লিমিটেডের পরিত্যক্ত এলাকায় জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট হাসিনার বিশেষ নির্দেশে এর নীতিগত অনুমোদন মেলে। জ্বালানি হিসেবে ভারতের এইচ এনার্জির কাছ থেকে এলএনজি সরবরাহের সমঝোতা স্মারক সই হয় ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু পাইপলাইন নিয়ে বিরোধের জেরে ভারত থেকে জ্বালানি পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, ভারতের এইচ এনার্জির কাছ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানি হিসেবে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি প্রাপ্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও সরকার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প বহাল রাখে। বিদ্যুৎ বিভাগ পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা চায়। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পেট্রোবাংলা বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দেয়। পরবর্তী সময়ে জ্বালানি বিভাগ ২০১৭ সালের ৬ জুলাই এডিবিতে গ্যাস সরবরাহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানিয়ে চিঠি পাঠায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলার আওতাধীন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে নওপাজেকো’র ২০১৭ সালে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণে সমঝোতা স্মারক সই হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসের নিশ্চয়তা পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ২২ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) রূপসার ৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২৪৬১ কোটি টাকা আর বৈদেশিক ঋণের পারিমাণ ৫৯৮৮ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি ছাড়া বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের এ ঘটনা কেবল ভারতের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারের নীতিনির্ধারকরা দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস পাওয়ার আশায় রয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা যায়। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার আগেই এর অনেক যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে এবং গ্যারান্টি পিরিয়ডও পার হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh