
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. মো. মনিরুজ্জামান দাবি করেছেন, নির্বাচনে তাদের প্রার্থী প্রকৃত অর্থে পরাজিত হননি। বরং বিভিন্ন কেন্দ্রে কারচুপি ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ফলাফল বদলে দিয়ে তাকে পরাজিত করা হয়েছে। সোমবার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব অভিযোগ করেন। প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল আজম মনিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মনিরুজ্জামান।
সভায় ডা. মনিরুজ্জামান অভিযোগ করেন, সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আব্দুর রশিদের প্রভাবেই নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে। তিনি জানান, ভোটগ্রহণ শেষে রাত ৮টা পর্যন্ত তার কাছে যে তথ্য ছিল, তাতে ধানের শীষ বিজয়ের অবস্থানেই ছিল। পরবর্তীতে কারচুপির মাধ্যমে সেই ফলাফল পরিবর্তন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংবাদিকরা উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তারা টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক সেবার উন্নয়নের দাবি জানান।
সাংবাদিকদের দাবির প্রেক্ষিতে ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি শ্যামনগরের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। তিনি জানান, তারেক রহমানের নামে শ্যামনগরে একটি পর্যটন কেন্দ্র উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া আতরজান কলেজকে সরকারি করা, শ্যামনগর মহসিন ডিগ্রি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উন্নীত করার প্রচেষ্টা এবং পৌর এলাকার জমির উচ্চ কর কমানোর বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করেন।
সভায় জেলা বিএনপির নেতা আশেক ইলাহি মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলাইমান কবীর, সহসভাপতি আবু সাঈদ ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী বাবুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, নির্বাচনী কারচুপি ও ফলাফল পরিবর্তনের বিষয়ে করা এই অভিযোগগুলো ডা. মো. মনিরুজ্জামানের নিজস্ব বক্তব্য।
আপনার মতামত লিখুন :