Facebook Twitter Instagram YouTube

সার সংকট নেই সরকারের দাবি, কৃষকের হাহাকার নিয়ে সংসদে বিতর্ক


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ /
সার সংকট নেই সরকারের দাবি, কৃষকের হাহাকার নিয়ে সংসদে বিতর্ক

দেশের সার পরিস্থিতি নিয়ে ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। কার্য প্রণালি বিধির ৬৮ বিধিতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান সার সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে এই নোটিশটি উত্থাপন করেন। আলোচনায় নাজিবুর রহমানসহ দলটির দুইজন সদস্য এবং সরকারের পক্ষ থেকে তিনজন প্রতিমন্ত্রী অংশ নেন। তবে সার ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে থাকা শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে আলোচনায় উপস্থিত দেখা যায়নি।

সরকার দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, দেশে বর্তমানে ৫১ দশমিক ৭১ লাখ মেট্রিক টন সার রয়েছে, যা চাহিদা মেটানোর পরও ১৫ দশমিক ৮৪ লক্ষ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচার সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া অনেক ডিলার এখনো বহাল আছেন বা পলাতক, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। বর্তমানে ৩ হাজার ৭৫৯টি সারের ডিলার পয়েন্ট শূন্য রয়েছে এবং বিতরণে সমস্যা এড়াতে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ভারত ও মিয়ানমারে সার পাচারের প্রবণতা রোধে প্রশাসনের তৎপরতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরিফুল আলম শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে বলেন, বিসিআইসির সাতটি সার কারখানার মধ্যে ঘোড়াশাল-পলাশ এবং শাহজালাল সার কারখানা উৎপাদনে রয়েছে এবং চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড পুনরায় উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়ায় আছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমি মনে করি সারের কোনো সংকট নাই। সারে পর্যাপ্ত উৎপাদন, আমদানি, মজুদ রয়েছে। সংকট তীব্র নয়, সার আছে। ব্যবস্থাপনা ত্রুটি কিছু থাকতে পারে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও রৌমারীতে কৃষকদের গোডাউন লুটের ঘটনা এবং সারের জন্য কৃষকদের অসন্তোষের কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০২৬ সালের বর্তমানে এই সংকটে সরকারের তথ্যমতে সার অতিরিক্ত মজুদ আছে। সার যদি অতিরিক্ত মজুদ থাকে তবে কৃষকরা সার পাচ্ছে না কেন এবং কেন তাদের কালোবাজারে যেতে হচ্ছে? তিনি সরকারের ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যর্থতাকে এর জন্য দায়ী করেন। জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মন্ত্রীর ব্যক্তিগত গোডাউনে সার থাকার অভিযোগ তুলে বলেন, আবার সেই ২০০১–২০০৬ সালের সিনড্রোম। যখন এক বস্তা সারের পরিবর্তে কৃষককে গুলির মুখে জীবন দিতে হয়েছে।

নাজিবুর রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জ্বালানি সংকটের সময়ও সরকার বলেছিল কোনো ঘাটতি নেই, যা পরে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সার কারখানা বন্ধ রেখে বেশি দামে সার কিনে মজুদ আছে বলে প্রচার চালানো হচ্ছে, কিন্তু তা কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানান, ৬৪ জেলায় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলায় কৃষক কার্ড উদ্বোধন করেছেন যা সার বিতরণ প্রক্রিয়া সহজ করবে। তিনি বলেন, পত্রপত্রিকায় আসা সার সংক্রান্ত ২০-২২টি বিশেষ এলাকার ছোটখাট সমস্যাগুলোকে ভিত্তি করে অসন্তোষ ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে। তিনি বিরোধী দলকে সবুর করার আহ্বান জানান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh