Facebook Twitter Instagram YouTube

রুমিনের বক্তব্য ঘিরে সংসদে তুমুল হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ /
রুমিনের বক্তব্য ঘিরে সংসদে তুমুল হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ

জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন বিএনপি সরকারের সমালোচনা করলে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এই হইচইয়ের কারণে কিছু সময়ের জন্য সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। একাদশ সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য থাকলেও এবার রুমিন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে রয়েছেন।

বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রতিটি সরকারের একটি নির্দিষ্ট চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। একইভাবে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে অথচ সারের সংকট হবে না এবং গরিব কৃষকেরা সার কারখানায় গিয়ে তা লুট করবেন না, সেটাও অসম্ভব। তাঁর এমন বক্তব্যের পরই বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই করে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।

হট্টগোলের মধ্যেও রুমিন তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না, তাও সম্ভব নয়। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা আরও বেশি হইচই শুরু করলে রুমিন যোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া এবং ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া।

সংসদজুড়ে চলমান হট্টগোলের মধ্যে রুমিন বলেন, সংসদ এতটাই অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে যে মনে হচ্ছে আমরা যেন আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি। আওয়ামী লীগকে যখন সমালোচনা করতাম তখন তারাও হট্টগোল করত, এখন বিএনপিও একই ধরনের আচরণ করছে, এমনকি আরও খারাপ আচরণ করছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই সংসদের বেশিরভাগ সংসদ সদস্যই ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনের আগে নাম কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি।

রুমিনের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হলে তাঁর মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংসদে হইচই চলতে থাকে এবং রুমিনও মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়েছে। স্পিকার বারবার বসার অনুরোধ জানালেও তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।

হট্টগোলের মধ্যে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও দাঁড়িয়ে কিছু বলছিলেন। ডেপুটি স্পিকার সব সদস্যকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, একজন সদস্যের বক্তব্য রাখার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু অন্য সদস্যরা তাঁর বক্তব্যে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।

রুমিন তখনও দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাঁকে বসার অনুরোধ করেন। এরপর চিফ হুইপের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকের এখানে বক্তব্য উপস্থাপনের স্বাধীনতা আছে। আপনাদের সময় এলে আপনারা তা খণ্ডন করবেন, কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। এরপর বিলের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানকে আহ্বান জানানো হয়। তখনও হট্টগোল চলছিল এবং রুমিন ফারহানা ও হান্নান মাসউদকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। স্পিকারের অনুরোধের পর শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বক্তব্য দেন।

পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার রুলিং দিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জবাব দিতে পারেন। কিন্তু আজ রুমিন ফারহানা কী বললেন, তা তাঁরা একেবারেই বুঝতে পারেননি। তিনি গালি দিলেন নাকি দোয়া করলেন, তাও স্পষ্ট নয়।

এ পর্যায়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ভঙ্গুর রাজনীতি পেয়েছে। একজন সদস্য যখন কথা বলেন, তখন তাঁর নিজেরও দৃষ্টি রাখা দরকার। মাত্র কয়েক দিন আগেও তিনি বিএনপির পক্ষে কথা বলেছেন। জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, চিফ হুইপ হিসেবে আপনারও দায়িত্ব রয়েছে। একজন সম্মানিত সদস্য কথা বলবেন, অসংসদীয় হলে তা চেয়ার থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে। কিন্তু বক্তব্য বাধাগ্রস্ত করা ঠিক নয়।

পরে বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তিনি পুরো বিষয়টিই বুঝতে পারছেন না যে আলোচনা কী হলো। একটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা এখানে চলে এসেছে বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে জানান, বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করেছেন এবং এ সময় তিনি চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo