
আসন্ন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট বা সোনার বুট কার হাতে উঠছে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা। এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত টিকে আছেন ছয়জন ফুটবলার। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে। টুর্নামেন্টে আর মাত্র একটি করে ম্যাচ বাকি থাকতে কার ভাগ্য হাসবে, তা নির্ধারণ হতে পারে ফিফার বিশেষ টাইব্রেকার নিয়মে।
বর্তমানে গোলদাতার তালিকায় সবার উপরে আছেন মেসি ও এমবাপ্পে। দুজনেরই গোলসংখ্যা সমান ৮টি করে। তবে গোলসংখ্যা এক হলেও অ্যাসিস্টের হিসেবে এমবাপ্পের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৪টি অ্যাসিস্ট, আর এমবাপ্পের রয়েছে ৩টি। অবশ্য মাঠে কাটানো সময়ের দিক থেকে আবার ফরাসি তারকা এমবাপ্পে এগিয়ে। মেসি এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ৬২০ মিনিট খেলেছেন, আর এমবাপ্পে মাঠে ছিলেন ৬০৯ মিনিট।
মেসি ও এমবাপ্পে ছাড়াও গোল্ডেন বুটের এই দৌড়ে গাণিতিকভাবে টিকে আছেন আরও চার ফুটবলার। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহ্যাম উভয়েই ৬টি করে গোল এবং ১টি করে অ্যাসিস্ট নিয়ে লড়াইয়ে আছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে ৫টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট এবং স্পেনের মিকেল ওয়ারজাবাল ৫টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট নিয়ে শেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পর এই সমীকরণ আরও ওলটপালট হতে পারে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে ট্রফি নির্ধারণে প্রথমে দেখা হয় কার অ্যাসিস্ট বেশি। অর্থাৎ, যিনি সবচেয়ে বেশি গোল করিয়েছেন, তিনিই গোল্ডেন বুট পাবেন। কিন্তু যদি গোল এবং অ্যাসিস্ট—উভয় সংখ্যাই সমান হয়ে যায়, তবে কার্যকর হবে ফিফার নতুন ‘সময়’ নিয়ম।
এই নতুন নিয়মে দেখা হবে কোন ফুটবলার মাঠে কম সময় কাটিয়েছেন। অর্থাৎ, কম মিনিট খেলে যিনি সমান সংখ্যক গোল ও অ্যাসিস্ট করতে পেরেছেন, তাকেই বেশি কার্যকর বিবেচনা করে সোনার বুট দেওয়া হবে। ফাইনাল ম্যাচের পর যদি এমবাপ্পে বা অন্য কেউ গোল ও অ্যাসিস্টের দিক থেকে মেসির সমতায় পৌঁছান, তবে শেষ পর্যন্ত মাঠে কাটানো সময়ের এই সূক্ষ্ম হিসাবই গড়ে দেবে গোল্ডেন বুটের ভাগ্য।
আপনার মতামত লিখুন :