Facebook Twitter Instagram YouTube

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ /
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার বিকেলে বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে তার দল আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে। প্রয়োজনে এই আন্দোলন গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানের রূপ নিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান পরিস্থিতি সরকার নিজেই আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত তারা হরতাল বা অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি না দিলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। তার ভাষ্যমতে, গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সনদের পক্ষে রায় দিলেও সরকার এখনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জনপ্রিয় স্লোগান ‘নাটক কম করো প্রিয়’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জনগণের দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার না করে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেই মনোযোগ দেওয়া উচিত। একইসাথে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সংবিধান সংস্কার, ৩১ দফা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের মতো পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। সংবিধান সংশোধনের নামে কোনো প্রহসন জনগণ মেনে নেবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যর্থতা নিয়েও নাহিদ ইসলাম সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পাঁচ মাস পার হলেও সাধারণ মানুষের জন্য তেমন কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। দলীয় নেতাকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। বরিশালের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে সংস্কার ও গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হবে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ১১দলীয় জোটের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin