Facebook Twitter Instagram YouTube

মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩০, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ /
মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই খসড়াটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভা থেকে অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার জন্য এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিই মূলত প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোর সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করেছে। এর আগে, অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় ১২ বছর পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন সেই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

জাকির আহমেদ খান কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল। তবে নাসিমুল গনি কমিটি বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশের বেশি রাখার সুপারিশ করেনি বলে জানা গেছে। এই কমিটি মাঝখানে দুই বছরে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল, যার মধ্যে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং পরের অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা খসড়ায় আগের সুপারিশের তুলনায় কিছু ভিন্নতা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে মূল বেতন কার্যকর হলেও তা দেওয়া হবে ভেঙে ভেঙে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোয় বেতন পাচ্ছেন, অথচ এই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। অর্থায়নের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী গত সপ্তাহে প্রথম আলোকে বলেন, রাজস্বের সীমাবদ্ধতার কারণে একবারে পুরো বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই এটি ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়, আর নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন পড়বে বলে কমিশন জানিয়েছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo