Facebook Twitter Instagram YouTube

ডিজিটাল সেবায় হয়রানি ও ভোগান্তি কমছে না: সিপিডির গবেষণা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ /
ডিজিটাল সেবায় হয়রানি ও ভোগান্তি কমছে না: সিপিডির গবেষণা

ডিজিটাল বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা পাওয়ার বিষয়টি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাইনে আবেদনের সুযোগ থাকলেও নাগরিকদের সনদ সংগ্রহ, স্বাক্ষর, অর্থ পরিশোধ কিংবা কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য সশরীরে সরকারি দপ্তরে যেতে হচ্ছে। ফলে ই-সেবার একটি বড় অংশ এখনো পুরোনো পদ্ধতির ম্যানুয়াল নির্ভরতায় আটকে আছে।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে 'এস্টাবলিশিং ইফেক্টিভ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টাবল ই-গভর্নেন্স টু স্ট্রেন্থেন লোকাল গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশনস বাই ফুলফিলিং দ্য নিডস অব ইউথ, জেন্ডার, অ্যান্ড মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস' শীর্ষক গবেষণায় এই চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির রিসার্চ ফেলো তামিম আহমেদ ও গবেষণা সহকারী সাবিনা শারমিন।

গবেষণায় দেখা যায়, ই-গভর্ন্যান্সের ডিজিটাল ফরম্যাট থাকলেও কাজের প্রক্রিয়াটি মূলত ম্যানুয়াল। নারীদের মাত্র ৩১.৯ শতাংশ এবং যুবদের ১৭.৮ শতাংশ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি অনলাইনে সেবা নিতে পেরেছেন। ডিজিটাল আবেদনের পরও প্রায় ৫৪.৩ শতাংশ নারী ও ৪৭.৭ শতাংশ যুবকে সশরীরে দপ্তরে গিয়ে কাগজের নথি জমা দিতে হয়েছে। স্থানীয় সরকার অফিসগুলোর ই-গভর্ন্যান্স প্রস্তুতির স্কোর ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৩৮.৯, যেখানে অবকাঠামোগত প্রস্তুতির হার আরও কম, মাত্র ২৪.১।

ইউনিয়ন পর্যায়ের অফিসগুলোতে অবকাঠামোর সংকট প্রকট। ইউনিয়ন কৃষি অফিসগুলোতে গড়ে সচল কম্পিউটার রয়েছে মাত্র ০.১৫টি, যার ৪৪ শতাংশই নষ্ট। এছাড়া ৬৭ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদ ও ৯৭ শতাংশ কৃষি অফিসে কোনো আইপিএস বা জেনারেটর ব্যাকআপ নেই, ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে সেবা বন্ধ হয়ে যায়। ই-গভর্ন্যান্স প্রস্তুতিতে ময়মনসিংহের স্কোর ৫৭.৩ হলেও রংপুরের অবস্থা মাত্র ৮.৮।

ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে নাগরিকদের তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও গবেষণায় উঠে এসেছে। ৫৮ শতাংশ নারী সেবা নিতে গিয়ে অনিরাপদ বোধ করেন এবং ৭৩.২ শতাংশ নারী তথ্য ফাঁসের ভয়ে থাকেন। ই-সেবা নেওয়ার পর ৬১.০ শতাংশ নারী অনাকাঙ্ক্ষিত কল ও মেসেজের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এছাড়া কোনো কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ৮৩.৩ শতাংশ নারী এবং ৭৮.৯ শতাংশ যুব কখনো কোনো অভিযোগই জমা দেননি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, সেবা পেতে বারবার সরকারি দপ্তরে যাতায়াত করতে হলে সময় নষ্টের পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি বাড়ে। তিনি তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারীদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। ফাহমিদা খাতুন বলেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তি দিলেই সুশাসন নিশ্চিত হবে না, বরং নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা এবং জবাবদিহিমূলক ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফজলুল জাহেদ পাভেল, আমিনুল মহাইমেন ও ড. অনন্যা রায়হান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin