Facebook Twitter Instagram YouTube

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় বহাল রাখলেন আপিল বিভাগ


প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ /
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় বহাল রাখলেন আপিল বিভাগ

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত প্রদান করলেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির অংশ নেন। রায় ঘোষণার পর ড. শরীফ ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট শিশির মনির এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেন। এর আগে টানা তিন দিন শুনানি শেষে বুধবার (৮ জুলাই) আপিল বিভাগ ৯ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করেছিলেন। একই সঙ্গে গণভোট বিলুপ্তসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারাও বাতিল করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়। এছাড়া হাইকোর্ট সংবিধানের ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। তবে আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল না করে বাকি বিষয়গুলো ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং তা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই বিকশিত হয়। বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি এবং জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। আদালতের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতেই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি এখন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।