Facebook Twitter Instagram YouTube

সুনামগঞ্জে মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, বাড়ছে নদ-নদীর পানি


প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ /
সুনামগঞ্জে মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

সুনামগঞ্জে গত দুই দিন ধরে চলমান ভারী বর্ষণ জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা চলতি মৌসুমের এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। এর আগে ২৮ এপ্রিল জেলায় সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল। গত দুই দিনে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ মিলিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি ও ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মোসিনরাম এলাকা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরের পানি দ্রুত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৫১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ২০ মিটার, যা আগের দিন একই সময়ে ছিল ৬ দশমিক ৬৯ মিটার। বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার (৭ দশমিক ৮০ মিটার) ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ-২) মো. এমদাদুল হক জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ ও উজানে আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জেলায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যে সদর, ছাতক, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা আকরাম উদ্দিন জানান, এলাকায় নদীর পানি বাড়লেও এখনো বসতবাড়িতে পানি ঢোকেনি, তবে টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তি বেড়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবদুল গণী আনসারী জানান, হাওরে এখন যে পানি রয়েছে তা স্বাভাবিক বর্ষার লক্ষণ, যা মাছ চাষ ও যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ছাতকের সুরমা নদী, তাহিরপুরের জাদুকাটা ও পাটলাই, জগন্নাথপুরের কুশিয়ারা এবং দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।