Facebook Twitter Instagram YouTube

প্রাকৃতিক দুর্যোগে আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৫, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ /
প্রাকৃতিক দুর্যোগে আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব

প্রকৃতির ভালো-মন্দসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা মহান আল্লাহর হাতে। তাঁর হুকুম ও আদেশ ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়ে না বা নদীর এক ফোঁটা পানিও প্রবাহিত হয় না। বন্যা, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং এগুলো যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে হানা দিতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র মতো পরিস্থিতি আমাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেবল সুরক্ষা-ব্যবস্থা গ্রহণই যথেষ্ট নয়, বরং আল্লাহর কাছে করুণা প্রার্থনা করা জরুরি। পবিত্র কোরআনের সুরা রুমের ৪১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘জলে-স্থলে বিপর্যয় মানুষের কৃতকর্মের ফল।’ তাই দুর্যোগের সময় হতাশ না হয়ে নিজের গোনাহের জন্য তওবা করা এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা উচিত।

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মানুষের কর্মফল ও আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা বাকারার ১৫৫-১৫৭ নম্বর আয়াতে ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে যারা বিপদের সময় বলে, ‘নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ এছাড়া সুরা শুরা-র ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, বিপদাপদ মানুষের কর্মফল এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ অনেক গোনাহ মাফ করে দেন। যখন ভূমিকম্প, ঝড়-বাতাস বা বন্যা হয়, তখন আল্লাহর কাছে নিরাপত্তার জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। রাসুল (সা.)-এর হাদিস ও কোরআন থেকে জানা যায়, সমাজ ও রাষ্ট্রে অন্যায় ও পাপের আধিক্য বাড়লে দুর্যোগের মাধ্যমে আল্লাহ সতর্কবার্তা পাঠান (সহিহ বুখারি: ৮৯৯, ৩৪৪৯, ৩২০৬)।

রাসুল (সা.) প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অত্যন্ত শঙ্কিত থাকতেন এবং আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করতেন। আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, মেঘ দেখলে বা ঝড়ো বাতাস বইলে নবীজি (সা.) চিন্তিত হয়ে পড়তেন এবং এ ভেবে শঙ্কা প্রকাশ করতেন যে, এটি উম্মতের ওপর আজাব হিসেবে পতিত হচ্ছে কি না। তিনি এ সময় এদিক-সেদিক পায়চারি করতেন এবং দোয়া পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা-ফিহা ওয়া খাইরা মা-উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা-ফিহা ওয়া শাররি মা-উরসিলাত বিহি।’ বৃষ্টির মাধ্যমে প্রেরিত কল্যাণ কামনা এবং সব অকল্যাণ থেকে পরিত্রাণ চাওয়াই ছিল তাঁর আমল। ঝড়-তুফানের সময় তাকবির দেওয়া বা আজান দেওয়া (হাইয়া আলাস সালাহ ছাড়া) সুন্নত হিসেবে গণ্য এবং সাহাবিরা বিপদে নামাজে দাঁড়িয়ে ধৈর্য ধারণ করতেন (মিশকাতুল মাসাবিহ : ৫৩৪৫)।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh