Facebook Twitter Instagram YouTube

সব নাগরিক সুবিধা এক কার্ডে আনার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৫, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ /
সব নাগরিক সুবিধা এক কার্ডে আনার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সকল কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা বা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন।

বুধবার ১৫ জুলাই ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের ওই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ ও রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। তার মতে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো রাষ্ট্রের কোনো করুণা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয়পত্রের মাধ্যমেই সব সরকারি সুবিধা পাবেন।

কৃষিখাত ও কৃষকদের অধিকারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক ইতিমধ্যে এর সুফল ভোগ করছেন। তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের অবকাঠামো ও জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি পৌঁছাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোটুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে দেশজুড়ে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মেগা প্রকল্পের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পের সফলতায় ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আড়াই লক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন বছর আগে সাধারণ মানুষের সাথে সংলাপের মাধ্যমে যে ৩১ দফা রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, তা এখন ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন এবং ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ সব প্রতিশ্রুতি ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin