Facebook Twitter Instagram YouTube

ডায়াবেটিস এড়াতে কেন পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ /
ডায়াবেটিস এড়াতে কেন পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

সুস্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেরই ধারণা রয়েছে যে, কর্মব্যস্ত সপ্তাহজুড়ে কম ঘুমিয়ে ছুটির দিনে বেশি ঘুমানোর মাধ্যমে ঘুমের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞরা এই ধারণাকে সঠিক মনে করেন না। তাদের মতে, নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি ইনসুলিনের কার্যকারিতাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

২০২২ সালে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘কিউরেস’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পর্যালোচনা অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের একটি সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রতি রাতে সাত ঘণ্টার কম ঘুম হলে শরীরে প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। এর ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ব্যাহত হয়, যা ইনসুলিনের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় বড় বাধা সৃষ্টি করে।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, এক বা দুই রাত কম ঘুমালেই একজন সুস্থ ব্যক্তি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে পড়বেন এমনটি নয়। স্বল্প মেয়াদে ঘুমের ঘাটতি হলে শরীরের ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। এক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অগ্ন্যাশয়কে অতিরিক্ত ইনসুলিন উৎপাদন করতে হয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের মাধ্যমে শরীর সাধারণত আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সক্ষম।

তবে দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত কম ঘুম হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়। ঘুমের অভাবে শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে ফেলে। একই সঙ্গে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। এর ফলে স্থূলতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং শেষ পর্যন্ত টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতি রাতে অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মাঝে মধ্যে এক-দু'দিন কম ঘুম হলেও পরবর্তী সময়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম কিছুটা উপকার করতে পারে, তবে নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি কেবল ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor